সমর্পন (২)

 সমর্পন (২)

- কাকলি চক্রবর্তী 



সে জানে আমার মন।

কোনো কোনো সময়,

তার চোখ জানিয়েছে পশ্রয়।

আজ যখন আমি আবদ্ধ তার চিন্তায়,

সে এখন পিছু পানে ধায়।

না,এতো সহজে আমি তাকে যেতে দিতে পারিনা।

কিছুতেই নয়।

তার সব খেলার আজ হবে শেষ।

আজ একটা হেস্তনেস্ত করবো বলেই

দাঁড়ালাম তার সামনে।

সে তখন পথের এক ধার ধরে এগিয়ে চলেছে।

তার চলার মধ্যে অদ্ভুত এক আরষ্টতা আছে।

যেন বুঝেবুঝে গুনেগুনে পা চলছে।

সব সময় তার চোখ এদিক ওদিক কিছু খোঁজে,

আর কেউ সামনে এলেই সে নামিয়ে নেয় চোখ।

সব মিলিয়ে তার এই অদ্ভুত আচরণের কী কারণ

আমার জানা নেই।

কখনো কারোর সাথে তাকে কথা বলতে দেখিনি,

সবাইকেই যেন এড়িয়ে চলে।

সেদিন একেবারে তার মুখোমুখী গিয়ে দাঁড়ালাম।

বুকে প্রবল দহন,

চোখে আগুনের ধিকিধিকি।

আজ হয় এসপার নয় ওসপার।

দীর্ঘ দিন ধরে সে আমায় নিয়ে খেলছে,

আমি বোধ বুদ্ধিহীন বালকের মত

ক্রমশঃ হেরে চলেছি।

আমার হটাৎ করে তার সামনে উপস্থিত হওয়াতে

সে থমকে দাঁড়াল।

হয়তো বুঝতে চাইছে আমার উপস্থিতির করণ।

চোখদুটি যথারীতি নামিয়ে নিয়ে

আমাকে পাশ কাটিয়ে সে যেতে চাইলো।

আমি ধরতে চাইলাম তার হাত।

হঠাৎ ই এক মধ্যবয়সি মহিলা এসে তার কাঁধে

হাত রাখলেন।

তাকে নিচু স্বরে বললেন,

"কী রে থামলি যে?

পথ পাড় হবি নাকি?

চল পাড় করে দিই।"

সে হেসে ব্যাস্ত হয়ে বলে ওঠে,

"না না, আমি পাড় হতে পারবো"।

তার সঙ্গে থাকা ব্যাগ থেকে বের করে একটি

ফোল্ডিং ব্লাইন্ড ওয়াকিং স্টিক।

আমি বাকরুদ্ধ হয়ে তাকিয়ে থাকি তার দিকে।


ক্রমশঃ

Post a Comment

0 Comments