তুমি বরং এই চাকরিটা নিয়েই নাও!

 তুমি বরং এই চাকরিটা নিয়েই নাও!

- মমতা মম



প্রেমিক চাকরি পেলো ঘুষের চাকরি। যেখান থেকে রোজ পকেটে টাকা ভরা যাবে। সেই টাকা দিয়ে একসময় হয়তো বাড়ি করা যাবে,গাড়ি কেনা যাবে। কিন্তু প্রেমিক ও আমি না করে দিলাম। আমরা কেন না করলাম এই চাকরি নিতে? কিসের এত নৈতিকতা আমাদের? কী লাভ এত সৎ পথে থেকে বর্তমানে? যেখানে দেখি ধর্ষকেরা সমাজের মাতব্বর হয়। নায়ক-নায়িকারা নগ্ন শরীর দেখিয়ে এত এত টাকা কামিয়ে তারপর হজ্জ করে পাক্কা মুসলিম হয়ে যায়। এমপি-মন্ত্রী,আমলা,বড় ব্যবসায়ীরা মানুষের টাকা মেরে  তারপরে দু চারটা প্রতিষ্ঠানে দান খয়রাত করে বিশিষ্ট সমাজসেবক হয়ে যায়। তারপর? তারপর জনগণের হাত তালি,প্রশংসায় পঞ্চমুখ।


ওহে প্রেমিক শুনো,তুমি বরং এই চাকরিটা নিয়েই নাও। তাতে রোজ রোজ তোমার পকেটে কাড়ি কাড়ি টাকা আসবে। তুমি বাড়ি-গাড়ি করতে পারবে। মাঝে মাঝে নাহয় দু-চারটা মসজিদসহ অন্যখানে দান খয়রাত করে দিবে। তাতে তুমি ও তোমার পরিবার উভয়ই ঘরে ও বাইরে অনেক অনেক সম্মান পাবে।

শুনো,এইযে তুমি কতশত মানুষকে নিজে না খাইয়ে তাদের খাইয়েছো,কতজনের কতভাবে উপকার করেছো তাতে কি তারা তোমার উপকার স্বীকার করেছে? এইযে আমি কত মানুষকে নিজের খাবার দিয়ে দিলাম,নিজের প্রয়োজন ভুলে টাকা দিলাম,কতজনের রাত জেগে সেবা করলাম,শত্রুর বাড়ির আগুন নিভালাম,রোজ রোজ ক্ষুদ্রভাবে মানুষের সেবার যে চেষ্টা তাতে কি কিছু লাভ হয়েছে? (যদিও লাভের আশায় কারো উপকার আমরা করি না।) বরং তুমি যাদের দুঃসময়ে দেখেছো তারা আজ তোমার খবর নেয় না।আমি যাদের জীবন বাঁচিয়েছি তাদের দ্বারা আজ নিজের জীবনের নিরাপত্তাহীনতায় ভুগি।


শুনো প্রেমিক,তুমি বরং এই ঘুষের চাকরিটা নিয়েই নাও। আমাদের এসব ক্ষুদ্রসেবা কেউ স্বীকার করবে না। তুমি বরং বাড়ি করো,গাড়ি কেনো। দু-চারটা প্রতিষ্ঠানে গিয়ে জনসম্মুখে সংবর্ধনার মাধ্যমে এক কোটি দান করো। তাতে তোমার সম্মান বাড়বে। তোমার জন্য তারা বেহেশতে যাওয়ার মোনাজাত করবে। তুমি তাদের কাছে বিশিষ্ট সমাজসেবক হয়ে উঠবে।


কিন্তু তুমি যে সেই জনগণের টাকা মেরেই তাদের দান করেছো,উপহার দিয়েছো তা তারা দেখবে না।

Post a Comment

0 Comments