আকাঙ্খা 

- সাহারা প্রমি 



যখন কোনো মানুষের মধ্যে অাকাঙ্ক্ষা মরে যায়, স্বপ্ন দেখার বাসনা গুলো মরে যায় সে মানুষ কি আর পরিপূর্ণ মানুষ হয়ে বাঁচে? মানুষ বাঁচে স্বপ্নে। প্রতিনিয়ত মানুষ স্বপ্ন দেখে.....নতুন স্বপ্ন বুনতে থাকে।


যখন কোনো মানুষের স্বপ্ন গুলো ক্রমশ ছোট হতে থাকে বড় স্বপ্ন গুলো তাকে হাতছানি না দেয়, নিজের হাজার না পাওয়া, সুন্দর একটা জীবন যাপনের অাকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে জন্মাতে ব্যর্থ হয়ে নিজের রোজকার যান্ত্রিক জীবনে অভ্যস্ত করে তোলে,নিজেকে সে অবস্থাতেই সন্তুষ্ট করে দেয়  তখন তার মনও

সংকীর্ণ গণ্ডিতে আবদ্ধ হয়ে যায়।এরপর সে আর ছোট ছোট স্বপ্নও দেখেনা সবকিছু তার জন্য অভস্ত্যতায় রূপ নেয়।

যেন এমন টাই হওয়ার ছিলো, এমন টাতেই সুখ।সে আর তার গণ্ডি থেকে বেরোতে পারেনা।তার মন ক্লান্ত পাখির মতো ডানা ঝাপটাতে ঝাপটাতে মুখ থুবড়ে পড়ে 

গতানুগতিক ধারার জীবনে।


শুধু নিঃশ্বাস নেয়া আর গৎবাঁধা নিয়মে জীবন কাটানো কে বাঁচা মনে হয় না আমার।এ যেন কেবল টিকে থাকা 

প্রানী হিশেবে।যে মানুষের দু চোখে স্বপ্ন ঠিকরে পড়ে না

যার মনের ভেতরে প্রদীপ জ্বলে ওঠে না সে মানুষ নয় 

কেবল শ্বাস প্রশ্বাস ফেলে চলা প্রানী।পেট ভরে খাওয়া আর বংশবৃদ্ধি করার নামই বেঁচে থাকা নয় সেটা তারা উপলব্ধি করে না।দিনকে দিন তার মন সংকীর্ণ হতে থাকে।সে হয়ে ওঠে চাবি দেয়া কলের পুতুল।


এধরণের মানুষদের আমি ভয় পাই। এড়িয়ে চলি।আমি এদের সংস্পর্শে আসা থেকে নিজেকে বাঁচানোর চেষ্টা করি।তাদের দেখলে আমার নিজের প্রাণ হাঁপিয়ে ওঠে।

আমি নিজে প্রতিনিয়ত স্বপ্ন বুনি, হাজারো অাকাঙ্ক্ষা

আর উদ্ভট সব খেয়াল খুশি মনের মধ্যে নিয়ে বাঁচি।স্বপ্ন

দেখাতে পারা মানুষের সংস্পর্শে থাকতে চাই।যাদের জীবনবোধ সম্পর্কে অসাধারণ সব সুন্দর সুন্দর ভাবনা আর বাসনায় ঠাসা।

প্রাচীন কালের মানুষেরা গুহায় বিভিন্ন রকম চিত্র এঁকে রাখতো।গুহাচিত্র বলে জানি আমরা যাকে।তো, যারা গুহায় চিত্র গুলো আঁকতো তাদের পাশে সবসময় আরও কিছু মানুষ থাকতো যারা প্রদীপ কিংবা আগুনের মশাল ধরে দাঁড়িয়ে থাকতো।যে আলোতে গুহার দেয়াল আলোকিত হতো আর তাতে ফুটিয়ে তোলা হতো অসংখ্য চিত্র।


আমাদের প্রত্যেকের জীবনে এমন কিছু মানুষের প্রয়োজন আছে যারা ওই প্রদীপ কিংবা মশাল ধরে পাশে দাঁড়িয়ে থাকবে।যারা আলোকিত করবে আপনাকে। আপনার অাকাঙ্ক্ষা স্বপ্ন দেখার বাসনা গুলো কে যারা নিজেদের আলো দিয়ে আরও বেশি উজ্জীবিত করে দেবে.....এমন মানুষদের নয় যাদের মনোজগত অন্ধকারাচ্ছন্ন যারা আঁধারে থেকে অভ্যস্ত 

যারা আলোর ঝিলিক কে ভয় পায় যারা মনে করে গতানুগতিক ধারার বাইরে আসা অশান্তির কারণ।


তারা নিজেরা যেমন অন্ধকারের পূজারী তাদের সংস্পর্শও আপনার জীবনের আলোটুকু নিভিয়ে দেবে 

আপনার চোখ বেধে দেবে কালো কাপড়ে।তারপর থেকে আপনিও আলোর ঝিলিক সহ্য করতে পারবেন না।হয়ে যাবেন তাদের একজন।স্বপ্নহীন অাকাঙ্ক্ষাহীন

হেঁটে চলে বেড়ানো কাঠের পুতুল।তাদের মতো আপনারও মূলমন্ত্র হয়ে যাবে শান্তিপূর্ণ দাসত্ববৃত্তিতেই সুখ।অল্পে তুষ্ট থেকে প্রাণ বাঁচানোই সুখ।


আমি তাই এদের সংস্পর্শ এড়িয়ে যাই।নিজের ভেতরে প্রদীপ জ্বালিয়ে রাখার চেষ্টা করি।যে প্রদীপ একটি মন্ত্রে জ্বলে ওঠে - শান্তিপূর্ণ দাসত্বের উপরে প্রশ্নবিদ্ধ স্বাধীনতা বেছে নিলাম।