সমর্পন (১)
- কাকলি চক্রবর্তী
চশমার গভীড় কাঁচের পিছনে
টানা টানা দুটি চোখে,
হালকা কাজলের রেখা।
আঁখিতারা দুটি উজ্জ্বলতায় ভরা।
সে হাসলে আঁখিতারা দুটি একবারে
ঝকঝক করে ওঠে।
ঠোঁটে লেগেথাকে মিষ্টি হাসি
সবসময়।
কিন্তু মুখখানা যেন তার বড়োই ম্লান।
অবসন্ন, নিমগ্ন কোনোখানে।
তাকে দেখি আর ভাবি,
বনলতা সেন যেন আষ্টেপিষ্টে জড়িয়ে আছে
তার সর্বাঙ্গে।
ক্লান্ত মুখ
ঘামে ভেজা কোমলতা,
ছোট্ট কপালে ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা
এলমেলো চুল,
আরো বাড়িয়ে তোলে তার রূপের ধারকে।
আমার সঙ্গে চোখাচোখি হলেই
সে নামিয়ে নেয় চোখ।
বার বার তার চোখে চোখ রাখতে চেয়েছি,
বলতে চেয়েছি মনের কথা।
সে ফিরিয়েছে মুখ।
অত্যন্ত অবহেলায় সে দেখেনি আমায়।
নিজেকে ভারি ছোটো বোধ হয়েছে।
মনে হয়েছে,
এই পৃথিবীর আমি এক অতি নিকৃষ্ট জীব।
অপমানীত হতে হতে মনেহয়,
সে কী আমাকে তার যোগ্য বলে মনে করেনা?
তাই কী এই অবহেলা?
ক্রমশঃ তার এই গুটিয়ে থাকার প্রবণতাকে
তার ঔধত্য বলে বোধ হলো।
তবে কী আমিই ভুল ভাবছি?
আমার প্রতি তার এই ব্যবহার,
তার রূপের দম্ভ?
অহংকার?
যদি তাই হয়,
তবেতো শাস্তি প্রাপ্য তার।
ক্রমশঃ

0 Comments