সত্যি ঘটনা অবলম্বনে
গ্রহণ(৪)
- কাকলি চক্রবর্তী
মায়ের চিৎকারে দৃশ্যর পটভূমির কোনো পরিবর্তন
ঘটে না।
বার বার মরতে গেলাম,
বেঁচে গেলাম।
বাবা মায়ের গলায় ছুরি ঠেকিয়ে বললেন,
আমি মরতে চাইলে মায়ের গলা কাটা যাবে।
তবুও আমি মরতে গেলাম,
মরণ হলো না।
এই সব কিছুর মধ্যেই
লেখাপড়াটা ও চালিয়ে গেলাম।
এই ভাবেই কুড়ি পেরোলাম।
সব মানিয়ে নিলাম,
সংসারের কাজ কর্ম,
মায়ের প্রয়োজন,
বাবার ধর্ষণ,
সব সামলে পড়ালেখায় খুব ভাল ফল করতাম।
জানেন, এখন আমি একটি কলেজে পড়াই।
জীবনে বহু প্রেম এসেছে,
কিন্তু বিয়ে করিনি।
কাউকে ঠকাতে ইচ্ছে হয়নি।
মা মারা গেছেন।
বাবার বয়স হয়েছে।
বাবা আমার হাত থেকে এখন রেহাই চাইছেন,
বয়সের ভাড় আর কী।
কিন্তু আমি তাকে রেহাই দিইনি।
এখন বাবা প্রতি রাতে আমার কাছে
নির্যাতন হন।
বাবা মৃত্যু চান,
আমার পায়ে ধরে কাতর মিনতি জানান,
যেন আমি তার থেকে দূরে সরে যাই।
কিন্তু তার এমন অনুনয় বিনয় শুনে,
আমার তাকে যন্ত্রনা দেবার মাত্রা আরো বহুগুন
বেড়ে যায়।
আর কী,
এমনি চলছে একটি নষ্ট মেয়ের জীবন।
প্রতি রাতে এখন বাবার চিৎকার শোনা যায়,
আর আমি হাসি।
পাশের ঘরে অদৃশ্য কেউ হেসে ওঠে
আমার হাসি শুনে।
বাবার মুখে কাপড় গুঁজে দিয়ে
তার চিৎকার বন্ধ করে,
নষ্ট মেয়ে একটা সময় ঘুমিয়ে পরে
স্বপ্ন দেখতে দেখতে।
আমি কাঁদি, খুব কাঁদি,
স্বপ্নে তরবারি হাতে আমার সেই রাজাকে দেখে।
যে রাজা,
একদিন আমায় রক্ষা করার শপথ নিয়েছিল।
শপথ নিয়েছিল আমায় সারাটা জীবন তার দুটি
হাত দিয়ে আগলে রাখার।
কেন তারা কথা রাখেনা?
কেন তারা সম্পর্কের মানে জানেন না,
বোঝেন না।
কেন এই আগ্রাসী লোভ খেয়ে ফেলে সব কিছু?
কেন? কেন? কেন?

0 Comments