আমার গ্রাম
।।সুমন বিশ্বাস।।
সবুজ গাঁয়ে আমার বাড়ি, ঘরে টিনের চাল,
বাড়ির পাশে ঠান্ডা জলের— ইছামতির খাল।
চৈত্রমাসে দারুণ খরা, বোশেখ-জ্যৈষ্ঠে ঝড়,
উড়বে হোলে দালান ছাড়া— ওড়ে যেমন খড়।
ধুমছে চলে ধান তোলা কাজ, শ্রমিক চাষি বাড়ে,
জলদি ঘরে তুলতে সবাই— মাড়াই করে, নাড়ে।
এই সময়ে দেবো তোমায়, মধুমাসের ফল,
জাম-জামরুল, আম-কাঁঠালে— বাড়বে দেহে বল।
আষাঢ়-শ্রাবণ বৃষ্টিধারা, সবুজে পায় প্রাণ,
ভাদ্র-আশ্বিন সাদামেঘের— মন মাতানো টান।
বিলের জলে শাপলা-পদ্ম, দেখতে তুমি পাবে,
মাছ ধরাতে থাকলে নেশা— নৌকো-ডোঙায় যাবে।
তাল-পেয়ারা, ডাউয়া-কৎবেল, মিলবে প্রচুর তখন,
পিঠা-বড়া সাথে দেবো; ইচ্ছা তোমার যখন।
কার্তিক-অঘ্রান শস্য কাটা, ব্যস্ত সবাই কাজে,
এই ঋতুতে গ্রামটি আমার— নতুন রূপে সাজে।
জাম্বুরা-ডাব, পাকা পেঁপে, খাবে ইচ্ছেমতো,
মিষ্টি রসের আখ চিবোবে— চাইবে তুমি যতো।
পৌষ-মাঘে শীতের সকাল, রোদ পোহাবে বোসে,
খেঁজুর রসের পিঠা-পুলি— পারবে খেতে কোষে।
মজার যতো সবজি দেবো, সকাল-দুপুর-রাতে,
কুল-টম্যাটো-বরই তুমি— গেলেই পাবে সাথে।
ফাগুন-চৈত্র বসন্তকাল, কোকিল ডাকে সুরে,
লাল ফুলেতে সবুজ সাজে— দেখবে তুমি ঘুরে।
ঈদ, পুজো, গান, ওয়াজ-কীর্তন, বছরজুড়ে চলে,
গ্রাম্যমেলায় মানুষ তুমি— দেখবে দলে দলে।
নৌকাবাইচ, ঘোড়ার দৌড়, যাত্রা-গাজির গান-
মিলেমিশেই আছি আমরা— হিন্দু-মুসলমান।

0 Comments