পুপুনের শৈশব (১৩)
- কাকলি চক্রবর্তী
আসলে এক ভাবে,
একি স্থানে পরে থাকতে থাকতে
মঙ্গলার সারা দেহে ঘা হয়ে গেল।
যদিও পুপুনের সেজো পিসিমা তাকে সন্তান স্নেহে
দেখা শোনা করতেন।
কিন্তু তবুও কিছু করা গেল না।
খুব কষ্ট পাচ্ছিলো সে।
কিছু খেতে পারছিলো না।
তাই যখন চিকিৎসায় কোনো ফল হচ্ছিলো না,
তখন ডাক্তার বাবু তাকে এমন কোনো
ইনজেকশন দিলেন যে,
মঙ্গলা পৃথিবীর সব মায়া কাটিয়ে
বরাবরের জন্য চলে গেল অনেক দূরে।
মঙ্গলা গাভী মুছে গেল বাড়ি থেকে।
সেদিন নিজের অজান্তেই পুপুনের চোখ
জলে ভেসেছিলো।
মঙ্গলাকে আর কোনোদিন দেখতে পাবে না সে,
সেই কষ্ট, যন্ত্রনা তার বুকের মধ্যে চেপে বসেছিল।
সেই যন্ত্রনা হালকা হতে না হতেই
আবার একটি ভয়নক কান্ড।
তাদের লক্ষ্মী,
সুন্দর সাদা ধব ধবে, শান্ত গভীটি কোনো এক অজ্ঞাত্ব
কারণে প্রাণ হারায়।
তার মৃত্যুর সঠিক কারণ জানা গেল না।
পর পর দুটো গরুর মৃত্যুতে খুব ভেঙে পরেছিলেন
দাদু।
দাদুর মুখের গল্প যেন কোথায় হাড়িয়ে গেল।
সাধারণ গৃহস্ত পরিবারে এভাবে গরুর মৃত্যু হলে
তা অশুভ হিসাবে ধরা হয়।
হয়তো দাদুর মন খারাপের সেটাই কারণ।
না কী ছোটো থেকে বড়ো হয়ে ওঠা
গরু দুটির মৃত্যু,
কষ্ট দিচ্ছিলো দাদুকে?
এই সব ঘটনা থেকে দূরে রাখার জন্য
পুপুনের মা তাকে কয়েকটা দিনের জন্য
মামার বাড়ি রেখে এলেন।
মামার বাড়ি সে বেশ ভালোই থাকে,
কিন্তু এবার তার একেবারেই ভালো
লাগছিলো না।
বাড়ির গোয়াল প্রায় ফাঁকা।
কয়েকটা হাঁস মুরগি আর সদর দরজার বাইরে
পরে থাকা কুকুর টি রয়ে গেছে।
দাদু খুব স্নেহ করতেন কুকুটিকে।
নাম দিয়েছিলেন বুট।
দারুন লম্বা চওড়া চেহারা।
দাদু নিজে খেয়ে তাকে খেতে দিতেন।
বুট কখনো সেই দরজা ছেড়ে যেতো না।

0 Comments