মুখ  না মুখোশ (১)

- কাকলি চক্রবর্তী 



সার - সার সাজানো মুখোশের মেলা।

জীব -জন্তু, রাক্ষস -খোক্কস, জোকার বা ঠাকুর দেবতা,

অথবা কোনো মহান মানুষের রূপ ধরা পরে মুখোশে।

এক ঝাঁক কচি কাচার দল ঘিড়ে ধরেছে সেই

মানুষ টাকে।

সহজাত প্রবৃত্তির বসেই তারা একে অপরকে ভয় দেখাবে বলে বেছে নিচ্ছে নানান ধরণের মুখোশ।

সবাই খুশি মুখোশ পরে।

হাসি খুশি শিশুদের দেখে মুখোশওয়ালাও খুব খুশি।

সে কয়েকটা মুখোশ বিনি পয়সায় বিলি করে দিল

কয়েক জন দরিদ্র শিশুর মধ্যে।

এক সময় মুখোশের তল্পিতল্পা গুটিয়ে পাড়ি দেয় বাড়ির পথে।

তাকে দেখে সবাই বলে,

' সত্যি এমন মানুষের তুলনা হয়না।

কত ভালো মন,

আর কি ভালোই না বাসে বাচ্ছাদের।

পাড়ায় এলেই একেবারে হই চই পরে যায়।'


হঠাৎ করেই একেবারে স্তব্ধ হয়ে যায় সাউ বাড়ি।

এমন কি পড়ার কুকুর গুলোও মুখে কুলুপ এঁটেছে।

এই কিছুক্ষন আগের তাদের সমস্বর চিৎকার বন্ধ হয়ে গেল।

পাড়ার কচিকাচা বাচ্ছার দল,

যারা হই চই করে খেলা ধুলো করছিলো,

তারাও সৰ কোথায় যেন মুহূর্তে উবে গেল।

এক লহমায় যেন শ্মশানের নিঃস্তব্ধতা নেমে এলো পড়াটিতে।

যে ভাবে জঙ্গলের বাঘের উপস্তিতি টের পেলে জঙ্গল

নিঃস্তব্ধ হয়ে যায়,

ঠিক সেই ভাবে।

সৰ চেয়ে ভয়ঙ্কর অবস্থা সাউ বাড়ির।


ক্রমশঃ