গোড়ায় গলদ
- সাহারা প্রমি
সেদিন দেখলাম এক আদিবাসী শিশুকে তার ক্লাসেরই বাঙালি বাচ্চারা মেরে রক্তাক্ত করেছে।আবার দুদিন আগে দেখলাম এক আট বছরের বাচ্চাকে তার ক্লাসের খুব কাছের বন্ধু মেরেছে। কেন? কারণ সে হিন্দু।তার মুসলিম ফ্রেন্ড তাকে বলেছে - হিন্দুরা পাপী। হিন্দুরা খারাপ।তুই মুসলমান হয়ে যা। মার খাওয়া বাচ্চা টি তাকে বলে - না আমি মুসলমান হবো না।ব্যাস,, অমনি তাকে তার বন্ধু মারা শুরু করে।
এই দুইটি ঘটনাতেই যে বাচ্চারা মারধোর করেছে তাদের ওপর রাগ বা অভিযোগ নেই কিন্তু এদের মনে এরকম নোংরামি আর ঘৃণা কে ঢুকিয়েছে?!যারা ঢুকিয়েছে তারা হলো আসল অমানুষ। যারা নিজেরা ঘৃণার চাষ করে আর এভাবে ছোট্ট ছোট্ট শিশুদের মগজ ধোলাই করছে।
তাদের শেখাচ্ছে,, ❝এই দেশে আমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ তাই অন্য যারা আছে ওদের সবসময় আমরা নির্যাতন করতে পারি, ডমিনেট করতে পারি।
যেকোনো কিছুতে আমাদের ধর্মীয় অনুভূতি আঘাতপ্রাপ্ত হয় আর অন্যান্য ধর্মের মানুষের কোনো ধর্মীয় অনুভূতি থাকতে নাই।ওদের সাথে যা তা ব্যবহার করা আমাদের জন্মগত অধিকার।আমরাই শ্রেষ্ঠ আর সবাই নিকৃষ্ট পাপীতাপী খারাপ মানুষ।❞
এসব শিশুদের মধ্যে নিজেকে সুপিরিয়র মনে করার চিন্তা ঢুকিয়েছে তার বাপ মা, তার পরিবার আর এই সমাজ। এই বাচ্চারাই কোনো আত্নীয় বাড়ি গেলে কিংবা অপরিচিত মানুষদের বয়সে বড়দেরকেও - আপনি এতো মোটা কেন? আপনি এতো কালো কেন? নামাজ পড়েন? আপনি এইভাবে কেন থাকেন? আমার মা বোরকা পরে আপনিও এইভাবে থাকতে পারেন না?
এরকম আরও হাজারটা জাজমেন্টাল প্রশ্ন শুরু করে।
আর তার বাপ মা নির্বোধের মত হাসি দিয়ে বলে,, পাকনা বেশি হয়ে গেছে। আপনি এসব বাচ্চার কাছ থেকে নম্র ব্যবহার আশাই করতে পারবেন না।কারণ সারাক্ষণ পরিবারে তারা এসব শেখে।এদের বাবা মায়েরা এধরণের জাজমেন্টাল কথাবার্তা অন্যকে নিয়ে আলোচনা করে, ধর্মান্ধতাও তারা এইভাবেই শেখে এরপর ঘৃণার চাষ শুরু হয়।তারা এগ্রেসিভ হয়ে ওঠে।
আর এই বাপ মায়েরাই গলা উঁচিয়ে বলে বেড়ায় তাদের বাচ্চারা এইটুকু বয়সেই কত্তো বড় মাওলানা হয়েছে। ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়ে, হ্যান ত্যান আরও কতো কি!
কিন্তু আসলে যে শিক্ষা টা একটা শিশুর প্রাথমিক ভাবে পাওয়ার কথা, সেই শিক্ষাই তারা সন্তান কে দেয়না।কারণ, তাদের নিজেদেরই সেই শিক্ষা নাই।
বেসিক ভদ্রতা, কাকে কি বলা যায় না যায় সেই সীমা বুঝে কথা বলা,কমনসেন্স এইসব কিচ্ছু এরা বাচ্চাকে শেখায় না। যার ফলাফল বাচ্চারা দিন দিন বেয়াদব আর অমানুষ হয়ে উঠতে থাকে।এদিকে কিন্তু এই বাপ মার নজর নাই।তারা এইটুকু বাচ্চাকে কতো বড় মাওলানা করেছে তাই নিয়ে বড়াই করতেই ব্যস্ত।
কিন্তু মানুষ হয়ে ওঠার মূলমন্ত্র এরা বাচ্চাকে দেয়না।এই বাচ্চা বয়সেই যে পরিমাণ উগ্র আচরণ তাদের মধ্যে ঢুকেছে বয়সের সাথে সাথে এরা যে ভয়ংকর অপরাধ ঘটাবেনা এর নিশ্চয়তা নেই কোনো।আজকে বাইরের মানুষের সাথে করছে কাল আপনার সন্তান আপনার সাথেই ঘটাবে।এটাই প্রকৃতির খেলা......
তখন কপাল চাপড়ানোর চেয়ে এখনই নিজের সন্তানের দিকে খেয়াল করবেন যে আসলেই মানুষ হচ্ছে কি???

0 Comments