চান্দ্রেয়ী না চুমকি (১)
- কাকলি চক্রবর্তী
রাতের রানী আমি,
এই রাতের বর্ণ, গন্ধ, চরিত্র
আমার রন্ধে রন্ধে চেনা।
রাতের একটা নিজস্ব শব্দ আছে,
রাত সেই শব্দের ভাষায় কথা বলে।
একমাত্র আমিই হয়তো বুঝি তার ভাষা।
বুক ভরে পান করি রাতের গন্ধ।
আহ্বান করি রাত কে বুকের মধ্যে।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সেজে ওঠে রাত,
আলোয় সেজে ওঠে পৃথিবী।
শুধু পৃথিবী নয়,
আকাশ পথ ও সেজে ওঠে রাতের আগমনে।
অজস্র তারার চুমকি সাজিয়ে দেয় আকাশ গঙ্গা কে।
কলকাতার এক বিখ্যাত নামি -দামি বারেজ আমার
প্রতি রাতের সমাগম।
সেখানে আমার খুব সন্মান,
অন্তত শুধু সেই রাতের জন্যই সন্মান।
' চুমকি রানী ' নামে সবাই চেনে একডাকে।
চান্দ্রেয়ী থেকে কখন যে' চুমকি রানী' হয়ে গেছি
নিজেও জানি না।
ছোট্ট সেই মফস্বলের একটি গ্রাম ছিল ছবির মতো।
ছবির মতো প্রাকৃতিক সৌন্দর্য্য,
যেন কোনো দক্ষ শিল্পীর আঁকা রং তুলির কারু কার্য।
রূপ নিয়ে গর্ব ছিল মনে মনে।
কখনো কখনো যে প্রয়োজন অতিরিক্ত রূপও
জীবনে অভিশাপ হয়ে ওঠে,
সেটা আমার জীবন থেকেই শিক্ষণীয়।
যদি সেই রূপ কোনো মধ্যবিত্ব পরিবারের বা হত দরিদ্র ঘরের হয়।
আমার সব গর্ব, অহংকার এক নিমেষে চূর্ণ - বিচূর্ণ
হয়ে গেল বছর পনেরোয় পা দিতেই।
সংসার, আর আমার পরের দুই বোনের উজ্জ্বল
ভবিষ্যতের জন্য,
বিয়ের নামে আমায় বেচে দিলেন আমার বাবা ও মা।
আচ্ছা মা কখনো এমন হতে পারেন?
আমার সব বিশ্বাস আর ভরসা সারা জীবনের মতো
হাড়িয়ে গেল।
আমার এই চোখ ধাঁধানো রূপ কাল সর্প হয়ে
দংশন করলো আমায়।
ক্রমশঃ

0 Comments