পুপুনের শৈশব (২০)
- কাকলি চক্রবর্তী
হটাৎ করে যেন পুপুনের বয়স বেড়ে গেছে
দশ বারোটা বছর।
পুকুরের মত,
মাঠের মত,দাদুর মত,
বা তার জীবনের আরো অনেক কিছুর মত,
তার শৈশব ও হাড়িয়ে গেল,
মুছে গেল।
মাত্র কয়েকটা দিনের মধ্যেই সে যেন
এক যুবক পুরুষ হয়ে উঠলো।
শরীরে বা চেহারায় না হোক,
মনে মনে সে এক পরিণত পুরুষ হয়ে উঠলো।
বায়না, আবদার, দুষ্টুমি, কোনোটাই সে আর করেনা।
বরং খুব সহজেই যে যা বলে মেনে নেয়।
নিজের মতামত প্রকাশ করে না।
তার মনে হয়,
সারাটা দিন যদি স্কুলেই কেটে যেত বেশ হত।
বাড়িতে যেন দম বন্ধ হয়ে আসে।
কেউ তো একবারও জানতে চায় না
সে কী চায়,
জানতে চায় না তার মনের ইচ্ছা।
আর মধ্যেই কয়েকটা অ প্রীতিকর ঘটনা ঘটনা
ঘটে গেল।
স্কুলে সামান্য একটা ঘটনায়
পুপুন আর তার বন্ধুর মধ্যে এমন জগড়া ঝাটি
অশান্তির সৃষ্টি হলো যে,
হাতা হাতিও হলো।
এতে দু পক্ষই কম বেশি আহত হলো,
এমনকি রক্তও ঝরলো দু পক্ষের।
স্কুল থেকে পুপুনের বাবা মাকে ডেকে
পাঠানো হলো।
বাড়ি ফিরে পুপুন কে তার মা বেশ কড়া করে শাসন
করলেন।
এমন ঘটনা এর আগে কোনোদিন ঘটেনি।
পুপুন তার সেই বন্ধুটিকে নখের আঁচড় দিয়েছে,
এমনকি কামড় ও বসিয়েছে।
আর তাতেই রক্তারক্তি হয়েছে।
সেই ছেলেটিও পুপুন কে মেরেছে কিন্তু
কিন্তু পুপুনের মত এতটা নয়।
সবার মনেই একটা প্রশ্ন,
কেন পুপুন এমন করলো?
এত রাগ তার মধ্যে কিভাবে এলো?
সেই শেষ নয়,
এর পর পাড়াতেও মাঝে মধ্যেই
তার বন্ধুদের সাথে এমন জগড়া ঝাটি লেগেই রইলো।
এই পুপুন কে কেউ চেনেনা।
এ যেন এক অন্য পুপুন,
এক অন্য মানুষ।
এই পুপুনের সাথে সেই আগের পুপুনের
কোনো মিল নেই।
বাড়িতে কারোর সাথে সে খুব একটা কথাও বলেনা।
বন্ধু বান্ধব রা সবাই এক এক করে
দূরে সরে যাচ্ছে।
চাইলেও সে কাউকে নিজের কাছে ধরে রাখতে
পারছে না।
সেই সময় তার একমাত্র বন্ধু হয়ে উঠলো
গল্পের বই।
বাবা, কাকু তাকে নানান ধরণের
ছোট দের গল্পের বই এনে দিতেন।
সে সেই বই পত্রে মুখ ডুবিয়ে বসে থাকতো।
এমন কী স্নান, খাওয়া দাওয়া ভুলে
গল্পের বই পড়ে যায়।
"চাঁদ মামা, শুকতারা, বেতাল, টিন টিন, বাঁটুল,
হাঁদা ভোঁদা,মেনড্রেক, টারজান আরো কত কি।
পুপুন কিছুটা হলেও শান্ত হলো।
তার জীবন আবার স্বাভাবিক হতে থাকে।
সে স্বাভাবিক জীবন যাপন করছে
এটা ভেবে সবাই কিছুটা নিশ্চিন্ত হয়।
তবে সত্যি কী সে সেই আগের পুপুন হয়ে
উঠতে পারবে?
এক থাকতে চাওয়া,
শুধু বইতে মুখ গুঁজে পরে থাকা কে কী
স্বাভাবিক জীবন বলে?
নাকি পুপুনের যৌবন অন্য কথা,
অন্য কাহিনী শোনাবে?
সমাপ্ত।

0 Comments