শিক্ষা ও জ্ঞান
তানবীর আহমেদ
নিজেকে সবজানতা ভাবার কোন কারন দেখতে পাইনা। কেননা আমি বা আপনি যা জানি তা কখনই সম্পূর্ন হবার পুরোপুরিভাবে সম্ভাবনা রাখেনা। কেননা জ্ঞানের পরিধি বিস্তর। একেক জনের চিন্তা চেতনা তার জ্ঞানের দ্বারা পরিচালিত হয়ে থাকে। জ্ঞান অর্জন কেবলমাত্র সার্টিফিকেট অর্জনকে বোঝায়না। যদিও শিক্ষার মূল উদ্যেশ্য হওয়া উচিৎ জ্ঞান অর্জন করা, তবুও এর দ্বারা যে সবাই প্রকৃত জ্ঞানি হয়ে উঠবে তা বলা যায়না। এক্ষেত্রে বিশিষ্ট অর্থনিতীবিদ আকবর আলীখান এর একটা উক্তি অত্যন্ত মুল্যবান। তিনি বলেছেন আমার শিক্ষকরা অত্যন্ত যত্নসহকারে আমাকে অর্থনীতি পড়িয়েছেন কিন্ত তা পরিচালনা করা শেখায়নি।সত্যিকার অর্থে পুঁথিগতবিদ্যা আমাদের কেবল অর্থ উপার্জনের তাগাদা দেয়, কিন্তু শুশিক্ষিত করতে ব্যর্থ। সার্টিফিকেট অর্জন করার মাধ্যমেই কোন ব্যক্তি শুশিক্ষিত হতে পারেনা। প্রমথ চৌধুরি একদম সঠিক বলেছিলেন, "স্বশিক্ষিত লোক মাত্রই শুশিক্ষিত"।
শুশিক্ষিত হতে হলে আমাদের জ্ঞান আহরন করা উচিৎ।
জ্ঞান বলতে আমরা কি বুঝি? কোন কিছুর সম্পর্কে সম্মক বা পরিক্ষালব্ধ ধারনাকেই বলা হয় জ্ঞান। আর যার কোন বিষয় সম্পর্কে তা থাকে, তাকে ঐ বিষয়ে আমরা জ্ঞানী বলে থাকি। আমাদের বেশিরভাগ মানুষের জ্ঞান আহরনের ইচ্ছা খুবই সল্প। আর যে জ্ঞান অর্জন করছি তাও প্রয়োজন সাপেক্ষে। যেমন বলা যেতে পারে আমার ব্যাংক সমম্পর্কে কোন জ্ঞান নেই, কিন্তু আমার একটি ব্যাংক একাউন্ট খুলতে হবে তার জন্য আমাকে কি কি করতে হবে, আমাকে তা জানতে ও করতে হবে এবং তার দ্বারা আমার একটি সম্মক ধারনা অর্জিত হলো। আর এভাবেই প্রয়োজনের উপর ভিত্তি করে আমরা কিছু বিষয়ে জ্ঞানী হয়ে উঠি। জ্ঞান আহরনের জন্য ব্যক্তির প্রবল ইচ্ছাশক্তির প্রয়োজন, তাছাড়া জ্ঞান অর্জন সম্ভবপর নয়। আরেকটি ব্যাপার হচ্ছে যে মানুষের জ্ঞান যত কম সে ততটাই কুসংস্কারাচ্ছন্ন। সে ততটাই কঠিনাবস্থায় রয়েছে।যেকোন ধরনের সংস্কারে সে বিমুখ। এরা যতটানা নিজের ক্ষতি করে তারচেয়ে বেশি ক্ষতি করে সমাজের। একজন ব্যক্তির অচল অবস্থা সৃষ্টি হলে তার মৃত্যু অবধারিত যদিনা তার অচলাবস্থার পরিবর্তন না ঘটে। তেমনি একটা সমাজের ক্ষেত্রেও তাই। এই অচলাবস্থার একমাত্র পাথেয় হবে জ্ঞানার্জন।
জ্ঞান হলো এক প্রকার আলো যা সকল প্রকার কুসংস্কার নামক অন্ধকার দূরীভূত করতে পারে।
0 Comments